কিভাবে কমাবেন ভুঁড়ি! খাদ্য পিপাসু মানুষের জন্য দরকার শরীরের দিকে নজর রাখা। জেনে নিন কিভাবে রাখবেন আপনার প্রত্যেক দিনের ডায়েট চার্ট

সারাদিনে বিভিন্ন নিয়ম কারণ আমাদেরকে মেনে চলতে হয় কিন্তু সেই নিয়ম কানুন মেনে চলার সাথে সাথে বেশ কিছু শরীরচর্চাও আমাদেরকে করতে হয়। নিজেদের সুস্থ থাকার জন্য কিছু কিছু সময় আমরা দেখেছি। নিজেরা হয়তো অনেক পরিশ্রম করছি কিন্তু নিজেদের শরীরে ঠিকঠাক পুষ্টি নেই। তার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়া আবার অনেক সময় অনেক মানুষ আছে যারা বলে যে খাওয়া-দাওয়া সবকিছু ঠিক থাকলেও তাদের শরীর ওজন বাড়ছে এবং অনেক রকম ব্যধিতে ভুগছে তার কারণ এটাই যে তারা পরিশ্রম করছে না। তাই পরিশ্রম করলে যেমন খাবারের দরকার তার সাথে সাথে একই রকম ভাবে দরকার খাবার থাকলে পরিশ্রম করা। তাহলে দেহের প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একইভাবে সঠিক কাজ করবেন। তবে অনেক সময় আমরা দেখেছি যে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকের অনেক সমস্যা হয়। অনেকে সব রকম খাবার খাচ্ছে কিন্তু শরীর নিতে পারছেনা তাই কোন মানুষের জন্য কিরকম পুষ্টির দরকার সেটা আগে নির্বাচন করা দরকার।


প্রথমেই আসি যে সমস্ত মানুষের শরীর ভারী অর্থাৎ ওজন বেশি। তাদের ওজন কমানো এবং ডায়েট মেনটেন করা। একটু কঠিন হলেও তা সম্ভব তবে একটু কষ্টকর যেমন আপনি সকালবেলা উঠে একটু এক্সেসাইজ করবেন সবার আগে। তারপর আপনাকে যেকোন একটি পানিও খেতে হবে হ্যাঁ অবশ্যই সে টিক টক জাতীয় ফলের যেমন ধরুন লেবু মধু বা লেবু। লেবু দিয়ে যেকোনো সর্বোত্তম লেবু-মধু এক্সেসাইজ এরপরে অনেক বেশি কাজ দেয়। আপনার পেটটাকে গলানোর জন্য তারপর আপনি সকালবেলা উঠে বেশ খানিকক্ষণ থাকার পর হালকা চিরে সেটা ভেজানো হতে পারে বা চিরে ভাজা হতে পারে তবে ডায়েট ছিল। সব সময় মেনটেন করবেন। সেটি খেতে পারেন। তবে সব দিন আপনি চা খাবেন না। কারণ তাতে শর্করাজাতীয় পরিমাণটা অনেক বেশি থাকে তার জন্য আপনি যেসব দিন খাবে না।


সপ্তাহে এক থেকে দুবার চিড়ে খেতে পারেন বা মুড়ি খেতে পারেন। তাছাড়া ডায়েট বিস্কিট। বিস্কিট সকালে আপনি খান তবে সুগার ফ্রী। তার বেশ কিছুক্ষণ পর অর্থাৎ দুই থেকে এক ঘন্টা পর আপনি সকালবেলা অর্থাৎ শসা গাজর টমেটো স্যালাড খান। যদি শীতকালে তাহলে তো কোনো অসুবিধা নেই সমস্ত রকম সবজি পাওয়া যায়। আপনি একটু সবজির পরিমাণ যত বেশি রাখবেন তার সাথে এক্সেসাইজ ততই আপনার ওজন কমতে থাকবে।



লাঞ্চের টাইম অর্থাৎ দুপুরে খাবার সময় আপনি রুটি খাবেন। ৭৫ গ্রাম থেকে ৮০ গ্রামের দুটো রুটি বানাবে। আর সেই রুটি একটি ও সবজির সাথে খাবেন অর্থাৎ দুশো গ্রাম সবজি খাবেন। আপনি তার সাথে সব রকমের ডাল খেতে পারেন। যেকোনো ধরনের ডাল আপনি খেতেই পারেন।


আর সারা দিনের ডায়েট লিস্ট অবশ্যই দু'রকম লেবু রাখবেন যে কোন লেবু আপনি রাখতে পারেন তবে পাতিলেবু অবশ্যই। তার সাথে থাকছে কমলালেবু মুসাম্বি লেবু বাতাবি লেবু ইত্যাদি'। এবার দুপুরের খাওয়াটা আপনি শেষ করলেন তারপর আপনি একটু রেস্ট নিলেন আপনি যদি অফিসে থাকেন তাহলে একটু সময় দিলেন। বিকেলের দিকে অর্থাৎ চারটের দিকে পাঁচটার দিকে আপনি একটু ফল খাবেন সেটি অবশ্যই লেবুর উপর দিয়ে বা ডালিম খেতে পারেন বা জেকন রসাল ফল। বেশ অল্প কিছু ফল খেলে তারপর যদি আপনি অফিসে থাকেন তাহলে অফিসের কাজ করুন বা বাড়িতে থাকেন তাহলে একটু হাঁটাহাঁটি করুন ও এক্সেসাইজ করুন।


বাড়ি ফিরে আপনি কি খেতে পারেন বা একটু উষ্ণ গরম জল। এটা আপনার শরীরের জন্য অনেক বেশি কাজে দেবে। গ্রিন টি খেলে আপনি মিষ্টি ছাড়া খাওয়া প্র্যাকটিস করবেন। কারণ স্বাভাবিক ভাবে চিনি ছাড়া গ্রিন টি খাওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই আছে যারা চিনি দিয়ে খাই তাই আপনি যদি খান তাহলে ও চিনি ছাড়া আর যদি গ্রিন টি খান তাহলেও চিনি ছাড়া খান। আর রাতে সেই একই কথা আপনি রাতে রুটি খেতে পারেন বা যদি রুটি খান তাহলে ২৫ গ্রাম ওজনের একটা রুটি খাবেন আর সবজি। তার সাথে এক টেবিল স্পুন ভাত খেতে পারেন। তবে দেখবেন মূল খাবারের থেকে সবজিটা যেন অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। তারপর আপনি রাতে ঘুমান তবে সকালের যে সমস্ত খাবার সেটি অল্টারনেটিভ করতে পারেন।


যেমন সকালের বদলে আপনি রোজদিন মুড়ি খেতে পারেন, বিস্কুট খেতে পারেন। তার সাথে আপনি যদি চান তাহলে ভেজিটেবিল এর কোন সিদ্ধ খাবার বানিয়ে খেতে পারেন বা নুডুলস খেতে পারেন। তবে সেটা সব দিনের জন্যে নয়। দুপুরবেলা যেমন আপনি রুটি খাচ্ছেন সেই রুটি খাওয়ার সাথে সাথে আপনি খেতে পারেন অল্প ভাত অর্থাৎ একটা রুটি বাদ দিয়ে একটা রুটি এক চামচ ভাত কিন্তু সবজির পরিমাণ বেশি। বিকেলবেলা যদি কোনদিন ফল খেতে ইচ্ছে না করে আপনি এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। এগুলো তো প্রোটিন থাকে ঠিক কথা কিন্তু আপনার এক্সারসাইজের সাথে সাথে এই খাবারগুলো আপনার ভীষণ পরিমাণে দরকার। তাই সবজির পরিমাণটা বেশি রাখুন এবং টক জাতীয় ফল এর আপনার ওজন এমনিতেই কমবে। একমাস আপনি এই ডায়েট চার্ট ফলো করুন দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার ওজন কমেছে তবে অবশ্যই আপনি এক্সেসাইজ করবেন সকালে এবং বিকেলে।


অফিসে যদি থাকেন তাহলে বাড়িতে ফেরার পথে হেঁটে বাড়ি ফিরুন অর্থাৎ স্টেশন থেকে নেমে বাড়ি যাত্রা করতে হলে সেটুকু আপনি হেটে ফিরুন বা গাড়িতে। যদিও জান সন্ধ্যেবেলা অন্তত কুড়ি মিনিট হাঁটার মতো সময় রাখুন আর সকালবেলা অবশ্যই বিছানা থেকে উঠে এক্সেসাইজ। আপনার ওজন আস্তে আস্তে ঠিক কন্ট্রোল হয়ে যাবে। আর মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন তার সাথে সাথে ফাস্টফুড এবং তেল জাতীয় খাবার একেবারেই চলবে না। আর চিকেন যদি খাওয়ার ইচ্ছে হয় তাহলে সপ্তাহে একদিন আপনি খান কিন্তু সেটা বয়েল বা সুপ করে। আপনার শরীরে অনেক কাজে দেবে। তবে যদি আপনি খেতে না পারেন। আপনি চিকেন কারি বানাতে পারেন। তবে সেটা অবশ্যই তেল ছাড়া।


আর তেল ছাড়া মাংস রান্না করার রেসিপি টা আমরা আপনাদেরকে দিয়ে দেব। সেই রেসিপি দেখেই আপনারা প্র্যাক্টিস করতে পারেন তাতে আপনার শরীরও ভালো থাকবে আর নিজে অনেক বেশি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তেল ছাড়া যে চলতে পারবেন আপনার শরীর ততবেশি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। ওজন কমবে। তাই সব বন্ধুদের জন্য এটুকুই বলব সবাই এই ডায়েট চার্ট ফলো করলে আপনার ওজন কিন্তু এক মাসে কমবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন