নীল ভট্টাচার্য ও তৃনা সাহার বিয়েতে জোর হইচই টলিপাড়ায়

নীল ভট্টাচার্য ও তৃনা সাহার বিয়েতে হইচই করবে বলে ছুটির অগ্রিম দরখাস্ত জমা দিয়েছে কৌশিক। ছোটপর্দার রাগী হাজবেন্ড 'বাবিন' কৌশিক রায়ের বায়না, গুড গুড এর বিয়ে 4 ই ফেব্রুয়ারি সত্যিই কি বিয়ের দিন শুটিং করবেন না! কৌশিক কেন করবে না? সংবাদমাধ্যম সুখবর তিনি দুদিন ছুটির আবেদন করেছেন।

trina saha
Trina Saha's Marriage

বর্তমান সিরিয়াল জগতের হার্টথ্রব নীল ভট্টাচার্য ও তৃণা সাহা বাস্তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছে। চলতি বছরের 2021 এ 4 ই ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ে। দুজনেই বাস্তবে বিয়ে নিয়ে খুবই ব্যস্ত রয়েছেন। 4 ই ফেব্রুয়ারি গুনগুনের সত্যিই বিয়ে তাই কৌশিক রায় ওইদিনই শুটিং করবেন না বলে জানিয়েছেন।

বর্তমানে প্রতিনিয়ত এই জুটির বিভিন্ন রকম পোস্ট আমরা দেখে থাকি। এবার তাদের চার হাত এক হওয়ার পালা।

তৃণা: (একটু লাজুক গলায়) হাসি বলতে পারেন দুটোই। সবকিছু যেন একটু বেশি বেশি মনে হচ্ছিল,আর তাছাড়া একে অন্যকে ছাড়া আর বেশিদিন থাকতে ও যাইতে চাইছিলাম না। তাই তাড়াতাড়ি করে বিয়ের সিদ্ধান্তটা আমরা নিয়ে নিয়েছি। আগামী 4 ফেব্রুয়ারি আমি আর বিয়েটা করেই ফেলছি আর 14 তারিখ আমাদের রিসেপশন।চিনা আরো মজা করে বললেন বর্তমান আমার ছোট পর্দার সিরিয়াল 'খড়কুটো' হলদি,সংগীত,মেহেন্দি সব অনুষ্ঠান আমি রিয়ার্সেল করছি।

তৃণা: আমার 'খরকুটো' পুরো টিম শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লিনা গঙ্গোপাধ্যায় এর কাছে ছুটির জন্য অগ্রিম দরখাস্ত জমা দিয়ে রেখেছি।

চিনা বললেন আমার বিয়েতে আনন্দ করবো বলে ভাবি বলে আবার খরকুটো সিরিয়ালের নায়ক কৌশিক রায় বলেই দিয়েছেন ওই দিকে তিনি কোন কাজ করবেন না,ছুটি নিয়ে নেবেন।

নীল ভট্টাচার্যের বাড়ি?

তৃণা সাহা: ত্রিধা বললেন দিলে পরিবার খুবই ছোট দিল ওর বাবার সঙ্গে ভীষণ হাসিখুশিতে থাকে সেটা হচ্ছে বাস্তবে পুরোটাই আলাদা।

2011 আমি একটা ক্লাস করতাম ডিলার, আমি তখন একে অপরকে চিনতাম না জানতাম না। ক্লাসে যেতাম একে অপরকে দেখতাম কিন্তু চিনতাম না একবার আমি একটা হলুদ কালারের ড্রেস পড়ে গিয়েছিলাম দিন আমার দিকে লক্ষ্য করেছিল তখন থেকেই তার নাকি আমাকে ভালো লাগতো। আমি তখন ওকে কখনো দেখিই নি ভালো করে ওসব কোনো ফিলিংস ই আসেনি। অতটা ভাল করে তাকিয়ে দেখতাম না ওর দিকে। একবার খুব বোরিং ফিল করছিলাম আবার কোনো চেনাজানা বন্ধুরা আসেনি বলে।হঠাৎ আবার লক্ষ্য করলো ডিলের দিকেও হাসি মুখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে তখনই প্রথম ভালো করে দেখেছিলাম ওকে। সেই দিন বন্ধুরা আসেনি বোর ফিল হচ্ছিল তাই ভাবলাম ওর পাশে গিয়ে বসে কিছুটা সময় কাটানো যাক বলে ওর সাথে বেশ কিছু সময় কাটালাম।

আমি তখন অনেকটা হেলদি ছিলাম...

তখন আবার ওজন ছিল প্রায় 70 থেকে 72 কেজির মতো। প্রযোজক দেবাশীষ চক্রবর্তীর কাছে যখন অডিশনের জন্য গিয়েছিলাম ফাস্ট বলেছিল ওজন কমানোর জন্য।সেইটা শোনার পর থেকেই উঠে পড়ে লাগলাম ওজন কমানোর জন্য ডায়েট যোগা করতে শুরু করে দিলাম আর আজ আমি এই পর্যায়ে।

হানিমুনের প্রস্তুতি.....

তৃণা সাহা: জোরে হেসে বললেন গ্রিস আমাদের দুজনেই  ইচ্ছা রয়েছে।

তোমাদের সম্পর্কটা প্রথম থেকেই বাড়িতে সবাই জানত?

তৃণা সাহা: প্রথম থেকে কেউই আমাদের সম্পর্কটা কেউ জানতো না,আর আমরা বাড়িতেও কাউকে জানাতে পারিনি। যদিও কেউ বিশ্বাস করত না আমরা ভালো বন্ধু, আমরা প্রথমে সেটা স্বীকার করতাম না।যেখানেই যেতাম সবাই জিজ্ঞাসা করত আমাদের সম্পর্কের কথা আপনার চেষ্টা পর্যন্ত সব সময় এড়িয়ে চলার।তারপর অনেকদিন পর সিদ্ধান্ত দিলাম ওর বাড়িতে সবাইকে সব জানিয়ে দেবো নীলের বাবা-মা সবাইকে জানিয়ে দিলাম আর ওরা শুনে খুব খুশি হলো।তারপর থেকেই ওদের সাথে কথা বলতাম ওরা আমাকে খুব পছন্দ করত বাড়িতে যাওয়া আসা কথোপকথন চলতে। আমার বাবা-মাও মনে করে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতো তারপরে যখন সবাই সবটা জানতে পারলো নীল কে পছন্দ করত সবাই।

আপনার বাড়িতে বিয়ের তোরজোর কতদূর?

তৃণা সাহা: বাবা মার সাথে গিয়ে লাল বেনারসি ও গয়না কিনেছি। আরবা কেউ একটা ভালো শাড়ি কিনে দিয়েছি ব্যাস এইটুকুই হয়ে রয়েছে এখন। আর এখনও তেমন কিছুই প্লান হয়নি সংগীত,মেহেন্দি,হোলি কবে কি হবে কিছুই ঠিক হয়নি।প্রতিদিন শুটিংয়ের কাজে এতই ব্যস্ত থাকি যে যখন আমি বাড়ি ফিরি তখন ওর দোকান বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ছবি কালেকশন করে রেখেছিস সেগুলো পছন্দ করার মত সময় পাচ্ছিনা।

বিয়েতে কি গিফট দিচ্ছেন নীল কে?

তৃণা সাহা:এনগেজমেন্টের দিন আলাদা করে অনুষ্ঠান হবে ওই দিনকে হীরের আংটি দিচ্ছি তবে কোন তারিখ কোন কিছু ঠিক হয়নি।তৃণা এটাও জানালেন তাদের বিয়ে হবে একদম বাঙালি সব কিছু নিয়ম বেঁধে বাঙালি ডিজাইনের ড্রেস পড়ে।

কে প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল?

তৃণা সাহা:2011 তে আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয় তখন ও কোন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়নি ওই বছরেই আমি দিল্লিতে চলে যায়।নীল কলকাতায়। আবার যখন 2015 ফিরলাম শহরে আবারো সাথে দেখা হল আবার একটা অন্যরকম অনুভূতি 2016 মাঝামাঝি নীল জন্মদিনে আমি ওকে জানিয়ে দিলাম ওর প্রতি আমার একটা ফিলিংস আছে নীল সেদিন আমায় কোনো উত্তর দেয়নি। 

তারপর, 2017 21 শে জানুয়ারি আবার জন্মদিনে ও নিজেই আমাকে প্রপোজ করল।তারপরে সেই থেকে আমরা রিলেশনে আছি কেউ কোনদিন বিয়ে নিয়ে আলোচনা হয়নি একেবারেই রবিবার দিল ভিডিও কল করে আমার বাড়ির সবাইকে জানালো আর আমিও তাতে রাজি হয়ে গেলাম। এইভাবে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেল।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন